Saturday, 19 November 2011

ছোটবেলা বিহারের মফস্বল সহরে জন্ম আর বেড়ে ওঠা । বাড়িতে অনেক ঘর, বারান্দা,উঠোন,ছাদ অনেক লোকজন, পুরণ জীর্ণদশাগ্রস্থ অনেক প্রবাসী, ভারতবর্ষ, শনিবারের চিঠি আর কিছু অচল পত্র ,সচিত্র ভারত আর ছোটদের পত্রিকা শিশুসাথি । এই বইগুলো দিয়েই আমার ১০/১১ বছর বয়সে গল্প বই পড়ার শুরু । এই সমস্ত কিছুর সঙ্গে ছিল কিছু জন্তু জানোয়ার ,একটা কালিন্দী নামের ভাল্লুক, চিলিম্পা নামের বাঁদরী আর একটা শেয়াল ,তার নাম মনে নেই।সে থাকতো রান্নাঘরের সামনে উঠোনে একটা বিশাল উনুনের গর্তে ,উনুনটায় মনেহয় বছরে একবার আগুন পড়তো ,একটা বিশাল বড় হাঁড়িতে জল ফুটত তার ওপর । সামনের চোঙদিয়ে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ে জমত অন্যপাত্রে , distilled water হত বাড়ীতেই বাড়ীতে বেশকিছু ডাক্তার আর দুটো ডাক্তারখানার চাহিদা মেটাতে । শেয়ালটা উঠোনেই থাকত , বাড়ীর অন্য কোথাও যেতনা ,মাঝে মাঝে রাতের দিকে গর্ত থেকে বেরিয়ে আকশের দিকে মুখ তুলে হুক্কাহুয়া করে ডাকতো । কখন যদি আমাদের পোষা কুকর উঠোনে গিয়ে পড়লে দুজনে সাঙ্ঘাতিক ঝটাপটি বেঁধে যেত ,সে সময় ওদের আলাদা করা খুব শক্ত ব্যপার ছিল । আর একটা দৃশ্য মনে পড়ছে , আমাদের এক জ্যঠতুত দাদা গলায় একটা সাপ ঝুলিয়ে ঠাকুর ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে , নিশ্চয়ই বিষ দাঁত ভাঙা কোন সাপ । আর ঠাকুর ঘরের নিরাপদ অন্দর থেকে আমাদের এক নির্বিরোধী , ভালোমানুষ , হাসিখুশী জামাইবাবু ভয়ার্ত গলায় নানা রকম সম্ভব অসম্ভব দিব্যি করে চলেছেন , তার সবগুলো এখানে লেখা যাবেনা । দুএকটা নমুনা – “আমি তোর কেনা হয়ে থাকবো , তুই যা বলবি তাই করবো , তোর চাকর হয়ে তোর জুতো পালিশ করে দেবো ইত্যাদি । তুই ওটাকে এখান থেকে নিয়ে যা ভাই ।” দাদা দাঁড়িয়ে নির্বিকার । এটা আমার শোনা কথা দেখা নয় । আমাদের সবচেয়ে ডাকাবুকো জ্যাঠামশাই কি উদ্দেশ্যে কিজানি একটা মাটীর হাঁড়ীর ভেতরে কাঁকড়া বিছে জমা করছিলেন । এক দুপুরে আমাদের ঠাকুমা সেই বিপজ্জনক মাটীর হাঁড়ী নিভন্ত উনুনে বসিয়ে তাদের ভবলীলা সাঙ্গ করান । লম্বা কাচের বাক্সে . chemical e ডোবান ছোট মাপের ঘড়িয়াল দেখেছি । যখন জ্যান্ত ছিল বাইরের উঠোনে বড় চৌবাচ্চায় থাকতো বলে শুনেছি । ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ । ।


No comments:

Post a Comment