Saturday, 12 November 2011

চেপ্টি


                              চেপ্টি ।
ছোটবেলায়  একটা  পুতুল  কোলে   ঘুরতাম ।  কাপড়ের  তৈরী  সেই  পুতুলের  রুটির মত গোল মুখে  চোখ , নাক , ঠোট আঁকা ।  নুলো নুলো  হাত পা । কোমর থেকে  হাঁটুর ওপর পর্যন্ত  শুধু  সামনে দিকে  স্কার্ট  পরানো । বেশ বড়সড় মাপের  পুতুল , কোলে নিতে  বেশ  ভালো লাগত । নাম ছিল  চেপ্টি । দাদার দেওয়া নাম ।পুরোটা চ্যাপ্টা তাই  চেপ্টি ।  অতি যত্নের  ফলে চেপ্টির অন্তিম দশা ঘনাত কিছুদিন  পর পর ।তাছাড়া  দাদা  কালী  দিয়ে  চেপ্টির  দাড়ি  গোঁফ  এঁকে  দিত  আমার  অজান্তে ।  পরিস্কার  করতে  গিয়ে    নীল  মুখের চেপ্টি  হয়ে  যেত ।  আমাদের বিহারের  ছোট শহরে  চেপ্টি  পাওয়া যেতনা  কেউ না কেউ  কলকাতায় যেতই  মাঝে মাঝে,   তখন  নিয়ে  আসত । চেপ্টি পর্ব বেশ কিছুদিন  চলেছিল । এছাড়া  একরকম কাঁচের পুতুল নিয়েও খেলেছি । সাদা রঙ । চোখ আর চুল কালো , ঠোঁটের জায়গায় লাল রঙ , তবে রঙ  ঠোঁট  ছেড়ে  বেরিয়ে যেত মাঝে মাঝেই । একটা হাত বুকের   ওপর  আড়াআড়ি করে  রাখা । অন্যটা ঠোঁটের ওপর । নানান মাপের হত  এগুলো ।  এদের বর ,বউ সাজিয়ে  বিয়ে  দিতাম । আমাদের  বাড়ীর  বড়রাও কেউ কেউ তাতে অংশ নিত । একবার মনে আছে বড় বউদি খুব সুন্দর করে পুঁতি দিয়ে  বউএর  গয়না  করে  দিয়েছিল । ছোটকাকীমা  ছাড়া আমরা  আমাদের  এই সব উৎসব কল্পনাও  করতে  পারতামনা । আমার মার বয়সী ছিল ছোটকাকীমার একমাত্র  মেয়ে   রাঙাদি  আমার সব চেয়ে বড় দিদির  চেয়ে একটু বড় । কিন্তু  সমস্ত  কিছুতেই  অদম্য  উৎসাহ  ছোটকাকীমার ।  রবিবার  মর্নিং শোতে মাঝে মাঝে  বাঙলা  সিনেমা  আসতো ।  ছোটোকাকীমা  দলবল  নিয়ে  ,সঙ্গে  আমরাও থাকতাম  চলল  সিনেমা দেখতে ।  আমাদের  ওসকাত “ ফিস্ট করবি ?’   আমরা  ছোটরা  বড়দের থেকে  চাঁদা তুলতাম ।তারপর বাকি কাজ  ছোটকাকীমার । জানিনা  কি করে এত সামলাত । যাই হোক ,পুতুলের বিয়ের  লুচি ,আলুরদম  ,মিষ্টি  আর  ছোট ছোট কাপে চা ।  আহা !
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

No comments:

Post a Comment