চেপ্টি ।
ছোটবেলায় একটা পুতুল কোলে ঘুরতাম । কাপড়ের তৈরী সেই পুতুলের রুটির মত গোল মুখে চোখ , নাক , ঠোট আঁকা । নুলো নুলো হাত পা । কোমর থেকে হাঁটুর ওপর পর্যন্ত শুধু সামনে দিকে স্কার্ট পরানো । বেশ বড়সড় মাপের পুতুল , কোলে নিতে বেশ ভালো লাগত । নাম ছিল চেপ্টি । দাদার দেওয়া নাম ।পুরোটা চ্যাপ্টা তাই চেপ্টি । অতি যত্নের ফলে চেপ্টির অন্তিম দশা ঘনাত কিছুদিন পর পর ।তাছাড়া দাদা কালী দিয়ে চেপ্টির দাড়ি গোঁফ এঁকে দিত আমার অজান্তে । পরিস্কার করতে গিয়ে নীল মুখের চেপ্টি হয়ে যেত । আমাদের বিহারের ছোট শহরে চেপ্টি পাওয়া যেতনা কেউ না কেউ কলকাতায় যেতই মাঝে মাঝে, তখন নিয়ে আসত । চেপ্টি পর্ব বেশ কিছুদিন চলেছিল । এছাড়া একরকম কাঁচের পুতুল নিয়েও খেলেছি । সাদা রঙ । চোখ আর চুল কালো , ঠোঁটের জায়গায় লাল রঙ , তবে রঙ ঠোঁট ছেড়ে বেরিয়ে যেত মাঝে মাঝেই । একটা হাত বুকের ওপর আড়াআড়ি করে রাখা । অন্যটা ঠোঁটের ওপর । নানান মাপের হত এগুলো । এদের বর ,বউ সাজিয়ে বিয়ে দিতাম । আমাদের বাড়ীর বড়রাও কেউ কেউ তাতে অংশ নিত । একবার মনে আছে বড় বউদি খুব সুন্দর করে পুঁতি দিয়ে বউএর গয়না করে দিয়েছিল । ছোটকাকীমা ছাড়া আমরা আমাদের এই সব উৎসব কল্পনাও করতে পারতামনা । আমার মার বয়সী ছিল । ছোটকাকীমার একমাত্র মেয়ে রাঙাদি আমার সব চেয়ে বড় দিদির চেয়ে একটু বড় । কিন্তু সমস্ত কিছুতেই অদম্য উৎসাহ ছোটকাকীমার । রবিবার মর্নিং শোতে মাঝে মাঝে বাঙলা সিনেমা আসতো । ছোটোকাকীমা দলবল নিয়ে ,সঙ্গে আমরাও থাকতাম চলল সিনেমা দেখতে । আমাদের ওসকাত “ ফিস্ট করবি ?’ আমরা ছোটরা বড়দের থেকে চাঁদা তুলতাম ।তারপর বাকি কাজ ছোটকাকীমার । জানিনা কি করে এত সামলাত । যাই হোক ,পুতুলের বিয়ের লুচি ,আলুরদম ,মিষ্টি আর ছোট ছোট কাপে চা । আহা !
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
No comments:
Post a Comment