Sunday, 13 November 2011
চা পর্ব আমাদের পরিবারের কথা বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় আমাদের ১১ বছরে বিয়ে হয়ে ১৩ বছরে বিধবা হওয়া ,বাবাদের ছ'ভাই চম্পার একমাত্র পারুল দিদি আমাদের পিসিমার কথা । মোটাসোটা ,মাথায় কাঁচাপাকা চুলের ছোট খোঁপা, সাদা থান পরা , সমদর্শী ,স্থিথধী এমন এক ব্যক্তিত্ব যে তার গুন দিয়ে ছোট থেকে বড় সবাইকে বশীভূত করে রেখেছিল । ভাইদের সংসারের কেন্দ্রবিন্দু । পিসিমাকে ভয় পেতনা কেউ সমীহ করত সকলে । ভাইদের সংসার আগলে রেখেছিল দুহাতে করে । একটা লোহার মোটা পাতের বেশ বড়সড় চৌক টুলের মত ছিল , সেটাকে আমরা সিংহাসন বলতাম , সেখানে বসে পিসিমা সংসার পরিচালনা করত, হাঁটুর ওপরে গয়লানির আনা দুধের কেঁড়ে বসিয়ে নিজের হাতে দুধ মেপে নিত ,নিরামিষ উনুনে দুধ জ্বাল দিত , নানা রকম মিষ্টি বানাত । খই ভাজত । আমাদের খাওয়া দাওয়ার তদারক করত । সকালে একটা মাঝারি হাঁড়ীতে চায়ের জল বসত আর একটায় চা ছাঁকা হত , গুঁড়ো পাতা দিয়ে তৈরি সেই চা করত আমাদের ছোটকাকা , কুস্তিকরা শরীর ,বলিষ্ঠ চেহারার আমাদের ছোটকাকা মাটীতে বাবু হয়ে বসে চা করছে এখনো যেন দেখতে পাই । আমাদের বড়সড় রান্নাঘরে সবাই জমা হত ,যারযার পদ অনুযায়ী কাপ ,কাপপ্লেট ,কাচের গ্লাস,কাজের লোকেরা তাদের কাঁসার পাত্রে চা পেত । পিসিমা চা খেতনা ,একটু দূরে বসত, ওখানে বসত আমাদের জ্যঠামনিও স্পেশাল কাপ প্লেটে চা নিয়ে । সেই সময়টা যেন ছিল পিঠোপিঠি ভাই বোনের অন্তরঙ্গ আলাপের সময় । জ্যাঠামনি হয়ত জানতে চাইল রাতে ঘুম ঠিক হয়েছিল কিনা । পিসিমা বলল ,মশারিতে মশা ধুকেছিল , ঘুমতে অসুবিধে হয়েছে । জ্যাঠামনি ব্যস্ত হয়ে উঠত । এই রকম সাধারন উঠল । আরেকবার চা হত বেলা ১০ টা নাগাদ সেটা করত আমাদের ছোটকাকীমা । ভাল সুগন্ধি পাতা দিয়ে করা সেই চা হত শুধু বাড়ির লোকের জন্যে । সেই সময় যারা সকালে নিজেদের কাজে গেছে পারলে বাড়ি ফিরত । চেম্বার থেকে কিছুক্ষনের জন্যে বাড়ি আসতো । চায়ের সময় একটা পারিবারিক আড্ডাও বসতো । আমাদের ডাক্তার মেজজ্যাঠাবাবু কথা বার্তা বিশেষ বলতনা , বই পত্র নিয়েই থাকতো কিন্তু এই সময় ঠিক আসতো । হাসিঠাট্টা খুব চলত । সম্মান রেখে । সব বয়সের সব আমাদের পরিবারের কথা বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় আমাদের ১১ বছরে বিয়ে হয়ে ১৩ বছরে বিধবা হওয়া ,বাবাদের ছ'ভাই চম্পার একমাত্র পারুল দিদি আমাদের পিসিমার কথা । মোটাসোটা ,মাথায় কাঁচাপাকা চুলের ছোট খোঁপা, সাদা থান পরা , সমদর্শী ,স্থিথধী এমন এক ব্যক্তিত্ব যে তার গুন দিয়ে ছোট থেকে বড় সবাইকে বশীভূত করে রেখেছিল । ভাইদের সংসারের কেন্দ্রবিন্দু । পিসিমাকে ভয় পেতনা কেউ সমীহ করত সকলে । ভাইদের সংসার আগলে রেখেছিল দুহাতে করে । একটা লোহার মোটা পাতের বেশ বড়সড় চৌক টুলের মত ছিল , সেটাকে আমরা সিংহাসন বলতাম , সেখানে বসে পিসিমা সংসার পরিচালনা করত, হাঁটুর ওপরে গয়লানির আনা দুধের কেঁড়ে বসিয়ে নিজের হাতে দুধ মেপে নিত ,নিরামিষ উনুনে দুধ জ্বাল দিত , নানা রকম মিষ্টি বানাত । খই ভাজত । আমাদের খাওয়া দাওয়ার তদারক করত । সকালে একটা মাঝারি হাঁড়ীতে চায়ের জল বসত আর একটায় চা ছাঁকা হত , গুঁড়ো পাতা দিয়ে তৈরি সেই চা করত আমাদের ছোটকাকা , কুস্তিকরা শরীর ,বলিষ্ঠ চেহারার আমাদের ছোটকাকা মাটীতে বাবু হয়ে বসে চা করছে এখনো যেন দেখতে পাই । আমাদের বড়সড় রান্নাঘরে সবাই জমা হত ,যারযার পদ অনুযায়ী কাপ ,কাপপ্লেট ,কাচের গ্লাস,কাজের লোকেরা তাদের কাঁসার পাত্রে চা পেত । পিসিমা চা খেতনা ,একটু দূরে বসত, ওখানে বসত আমাদের জ্যঠামনিও স্পেশাল কাপ প্লেটে চা নিয়ে । সেই সময়টা যেন ছিল পিঠোপিঠি ভাই বোনের অন্তরঙ্গ আলাপের সময় । জ্যাঠামনি হয়ত জানতে চাইল রাতে ঘুম ঠিক হয়েছিল কিনা । পিসিমা বলল ,মশারিতে মশা ধুকেছিল , ঘুমতে অসুবিধে হয়েছে । জ্যাঠামনি ব্যস্ত হয়ে উঠত । এই রকম সাধারন উঠল । আরেকবার চা হত বেলা ১০ টা নাগাদ সেটা করত আমাদের ছোটকাকীমা । ভাল সুগন্ধি পাতা দিয়ে করা সেই চা হত শুধু বাড়ির লোকের জন্যে । সেই সময় যারা সকালে নিজেদের কাজে গেছে পারলে বাড়ি ফিরত । চেম্বার থেকে কিছুক্ষনের জন্যে বাড়ি আসতো । চায়ের সময় একটা পারিবারিক আড্ডাও বসতো । আমাদের ডাক্তার মেজজ্যাঠাবাবু কথা বার্তা বিশেষ বলতনা , বই পত্র নিয়েই থাকতো কিন্তু এই সময় ঠিক আসতো । হাসিঠাট্টা খুব চলত । সম্মান রেখে । সব বয়সের সব সম্পর্কের সবাই থাকতেন তো , তাই । মধুছন্দা পাল । মধুছন্দা পাল ।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment