Monday, 6 February 2012

টুবুদির বিয়ে ।

                     
জ্যাঠামনির  বড়  মেয়ে  আমাদের সবাইয়ের বড়দি । কলকাতার  আশেপাশে  কোন ছোট   আধা শহরে থাকতো   মাঝে  মাঝে বাপের বাড়ী আসতো । খুব ভালো মানুষ , শান্ত শিষ্ট  ছিল। অনেক গল্প বলত  আমাদের । জামাইবাবু  ছিলেননা।      আমার যখন থেকে মনে পড়ে  সাদা শাড়ীতেই  দেখেছি । বেশ কয়েকটি ছেলে মেয়ে ছিল বড়দির ।  দুএকজন  আমাদের কাছাকাছি  বয়সের ছিল , আমাদের ওখানে থেকেই পড়াশোনা  করতো ।

                   সেই বড়দির  মেয়ে  টুবুদি । যতদুর  মনে হয় আমার দিদি/ রাঙ্গাদিদের বয়সি কারণ ওদের সঙ্গে  খুব ভাব ছিল মনে আছে  । তো সেই টুবুদির বিয়ে । আমাদের বাড়ী থেকেই হবে । দিদিদের অনেক আগেই বিয়ে হয়ে গিয়েছিল টুবুদির বিয়ে একটু দেরি করেই ঠিক হয়েছিলো মনে হচ্ছে ।

            পাত্র বিহারের গ্রামের ডাক্তার ,নাম গোপাল ।  এখন লিখতে গিয়ে মনে হচ্ছে  বোধহয় আত্মীয় স্বজন তেমন কেউ ছিলনা  কারণ বিয়ে করতে একলা এসেছিল যতদুর মনে পড়ছে । আর আমাদের বাড়ীতেই  বউভাত  ফুলশয্যা  ইত্যাদি  হয়েছিল  মনে আছে ।
                তো গোপাল যে অতি সুবোধ বালক  একেবারে অক্ষরে অক্ষরে  প্রমান করে দিল বর।  মুখে কোন কথা নেই । সেটা অবশ্য বহুদিন বিহারের   দেহাতে থেকে   বাংলা ভাষা বলার অভ্যেস চলে যাওয়ার কারনেও হতে পারে ।  বিয়ের  নিয়ম কানুন  করাতে গিয়ে  নানারকম  হাস্যকর   পরিস্থিতি তৈরি করছিল ,  ,আর  জোরে জোরে হাসির হররা উঠছিল ।  একটা ব্যাপার মনে আছে । বিয়ের সময় কয়েকবার শিলের ওপর দাঁড়ানোর  নিয়ম আছে  বর শিলের ওপর উঠেই ধপ করে বসে পড়ছিল । একবার নয় বারবার ,পিঁড়িতে উঠেও    একই ঘটনা । সেই সব  নিয়ে খুব হাসল মেয়েমহল।

       আমরাই বা  পিছিয়ে থাকি কেন ? বরের কাছাকাছি  গিয়ে “ গোপাল গোরুর পাল নিয়ে যায় মাঠে ......” বলে তার যাকে বলে ঠ্যাং টানা  তার  চেষ্টা করা । তবে বর কিছু  বুঝছিল বলে মনে হয়না । আমরা বললাম বটে আমি সঙ্গে থাকা ছাড়া আর কিছু করিনি , মায়ের কানে গেলে  যে কপালে দুঃখ আছে তা জানতাম ।  টুবুদির ভাই বোনেরাই  অনেক ভাবে হয়রান করার চেষ্টা  করছিল । ওদের অধিকারও ছিল অবশ্য । বয়স যাই হোক সম্পর্কে আমি শ্বাশুড়ী ।  

            যা হোক ,বিয়ে  মিটে  গেলো ভালোয় ভালোয় ।  আগেই বলেছি   টুবুদির ফুলশয্যা আমাদের বাড়ীতেই  হয়েছিল ।সেদিন    গভীর  রাতে চোর এলো বাড়ীতে ।     
 
         গরমকাল  যে যেখানে পেরেছে  শুয়ে পড়েছে ।টুবুদিরা  তিনতলায় জ্যাঠাইমার ঘরে ।বাকি দুটো ঘর  খালি, বাইরে থেকে বন্ধ । ওরাও  দরজা খোলা রেখেছিল মনে হয় । তো চোর  ঢুকলো  গিয়ে  টুবুদিরা যে ঘরে  শুয়েছে সেই ঘরে ।  ঘরে ঢুকে  খাটের নীচ থেকে টেনে বার করেছে স্যুটকেশ সেই আওয়াজে  ঘুম ভেঙে  উঠে  টুবুদি দেখে   মেঝেতে  চোর  বসে  ।চোর  নাকি টুবুদিকে  দেখেই  এক বিরাট  দাঁত খিঁচুনি  দিয়েছিল ভয়  দেখানোর  জন্যে ।  টুবুদি    তারস্বরে  চোর চোর  চিৎকার শুনে বাড়ীর  লোকজন উঠে  চোর ধরার জন্যে   ছোটা ছুটি শুরু করলেও  ধরা তত সহজ ছিলনা , সব জায়গার আলো  তেমন জোরাল  নয় ।   ছোটকাকার  একটা  পাঁচ ব্যাটারির  টর্চ ছিল  সেটা দিয়ে  চোর  খোঁজাখুঁজি চলল  মাঝে মাঝে দেখা যায় আবার কোথাও লুকিয়ে পড়ে ।আমাদের মেজজ্যাঠা বাবুর  সারারাত জেগে বই পড়ার  অভ্যাস ছিল  ।একটু অদ্ভুত  মানুষ ছিল ।  ভালো ডাক্তার  হওয়া স্বত্বেও কোনদিন  প্র্যাকটিস  করেনি । এক পিসিমা ছাড়া  কারো সঙ্গে কথা বলতনা  বড় একটা ।  তো বারান্দায়   আড় হয়ে  শুয়ে  একগাদা  মেডিক্যাল  জার্নাল  পড়েছে , তখনও  পড়ছে  মাথার কাছে একটা লন্ঠন  জ্বলছে । বারান্দার আলো যথেষ্ট  জোরাল  নয় বই পড়ার পক্ষে তাই একটা লন্ঠন নিয়ে আসতো ।  শেষ  পর্যন্ত চোরকে দেখা গেলো হাতে একটা ছোট ছুরি সেটা   ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে  মেজজ্যাঠাবাবুকে  ডিঙিয়ে  যে পথে এসেছিলো সেই দিকে দৌড়ল  বাধ্য হয়ে আর সবাইও অগত্যা  মেজজ্যাঠা বাবুকে ডিঙিয়েই।  ছোটোকাকা  লন্ঠনটা তুলে নিল  ছুটল  চোরের পেছনে ।  মেজজ্যাঠাবাবু নির্বিকার । চোর  দোতলার  ছাদের  পাঁচিল  ডিঙিয়ে  পাশের বাড়ীর  পোড় জমিতে লাফিয়ে পড়ে   পালিয়ে  গেলো।
                     চোর পর্ব মিটতে মিটতে প্রায় ভোর  । আমার অত্যন্ত প্রিয় লেখিকা  লীলা মজুমদার  বলেগেছেন  ছোটদের নাকি  বিশেষ  রকম  বড় বড় কান থাকে  তাই দিয়ে তারা অনেককিছু শুনতে পায় । সেই কান দিয়ে আমি শুনলাম  এবং দেখলামও   টুবুদির হাতে একটা নতুন আংটি ওটা নাকি বরের   দেওয়া । আংটি  পরানোর  কাহিনীও  আমার  বিশেষ  কান দিয়ে শুনেছিলাম  যখন দিদি / রাঙাদিরদের চাপাচাপিতে ওদের  কাছে গল্প করছিল ।  টুবুদির সঙ্গে বরের আলাপ হয়নি ।রাতেমটকা মেরে পড়ে থাকা টুবুদি হঠাৎ  টের পেল  বর হাত ধরে টানছে  তাকিয়ে দেখে  বর উঠে বসে   আংটি পরানোর চেষ্টা করছে  টুবুদিকে  ধড়মড় করে উঠে বসতে দেখে  বর নাকি কাজ অসমাপ্ত রেখেই ধুপ করে শুয়ে পড়েছিল ।আর  টুবুদি নিজেই বাকিটা কাজটা নিজেই সেরে নিয়েছিল ।

     টুবুদি খুব সুখী হয়েছিলো ।  দুটো ছেলে হয়েছিল একদম বিহারের মানুষ ।বড়টার নাম ছিল কুমার । লালচে চুল , ফুটফুটে  দেখতে । নাম জিজ্ঞেস করলে  বলত  “কুমার বা” ওখানে  গ্রাম্য লোকেরা  ঐ ভাবেই নাম বলে থাকে । আমরা মজা করে বার বার নাম জিজ্ঞেস করতাম ।

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো

                      
            আজ পৌষ পার্বণ  পিঠে পায়েস খাওয়ার দিন আর আমার কিনা মনে পড়ছে এই বছর কলকাতায়  আমাদের আবাসনের  কোজাগরী  লক্ষ্মী পুজোর দিনের কথা ! কি আর করা । 

                              মাদুর্গা তো এলেন  ছেলে মেয়ে  সাঙ্গ পাঙ্গ  এমন কি বধ করার জন্য  এক  অসুরও আঁচলে  বেঁধে।   চার/ পাঁচ দিন ধরে সেকি উন্মাদনা  সেকি উৎসাহ  আমাদের আবাসনে    একবছর  ধরে  কেনা , পাওয়া ,   বাগানো  পোশাকের  সেকি  ঝলমলানি ।  কে মা কে মেয়ে চেনার উপায় তো নেই-ই , মাঝে মাঝে  দিদিমা  ঠাকুমাও  গুলিয়ে যাওয়ার   যোগাড় ।  বেঁচে থাক শাহনাজ হোসেনের  প্রোডাক্ট ,  তোমাদের  কল্যানেই  তো জানলাম   রিঙ্কিল ফ্রী ক্রিম কাকে বলে ।  বেঁচে  থাক  বিউটি  পার্লার গুলো । সোনার কাঁচি সোনার চিরুনি  হোক মা তোমাদের ।   কি আস্পরদা বলে নাকি মেয়েরা কুড়িতেই  বুড়ি !  সময় এসেছে জবাব দেবার । এক কুড়ির জায়গায় তিন কুড়ি হল  প্রায় ।  বলুক তো কেউ বুড়ি !
              এদিকে  দুবেলা  একসঙ্গে পাতপেড়ে  চর্ব্য চোষ্য খেয়ে ওজন  বাড়িয়ে  ফেলেছে প্রায় সবাই । সারাদিন তো বসে বসেই  কাটছে  হয়  আড্ডায় বসা নয়তো  অনুষ্ঠান দেখতে বসা । পাঁচ দিনের  নানা রকম  অনুষ্ঠান ।  ছোটদের  করা ,  মাঝারি দের করা, বড়দের করা , এমনকি  বয়স্ক মহিলাদের  করা । তবে  বলতেই হবে  সবকটাই   হয়েছিল  যাকে বলে জব্বর ।
                                                                     তারপর  তো  মিটে গেলো দুর্গা পুজো । এবার  পালা  মা লক্ষীকে আবাহন করার ।  এদিকে  সামনেই  কালিপুজো ।  ডেকরেটারের  লোকেরা  প্যান্ডেলের বাঁশ, কাপড়  খোলার জন্যে টানাটানি  শুরু  করে দিয়েছে ।  তার মধ্যে  ছোটখাটো  মা  লক্ষ্মী যেন একটু  কুণ্ঠিত  হয়েই  অধিষ্ঠিত  হলেন ।
                  দুপুর  বেলা দেখা গেল  তখনও চারিদিকে  এলোমেলো  অনেক  হাবিজাবি  জিনিষ  ছড়িয়ে  ছিটিয়ে  পড়ে আছে ।  একটি মাঝ বয়সি  লোক   পুজোর কদিন  এসে কাজকর্ম   করে দেয়  তাকেও  দেখা যাচ্ছেনা   আসেপাশে ।  অবশেষে  পুজোকমিটীর  প্রেসিডেন্ট  নিজেই  একটা ঝাঁটা  হাতে  ময়দানে  নেমে  পড়লেন    ভাগ্যক্রমে  সেটা চোখে   পড়ে গেলো এক   কর্মকত্রীর   তিনি  এসে  ব্যপারটাকে  টেক আপ  করলেন ।   পাশদিয়ে  যাচ্ছিল  কাঠ  মিস্ত্রিদের  একজন ।   তাকে  ডেকে পয়সা   দেবার  কথা বলে  মাএর আশপাশ  পরিস্কার  করে দিতে  বলা হল । 
 সে একটা মাটীর  মালসায়  খানিকটা জল নিয়ে  পাশের দড়িতে  কারো একটা  কারো  একটা  কেচে   শুকোতে দেওয়া  হাফপ্যান্ট   টেনে নিয়ে  জায়গাটা  মুছে পরিস্কার  করে দিল ।  প্যান্টের মালিক  কি  করেছিল  জানানেই !
                          সন্ধ্যেবেলা  আরতির  সময়  আবার  জমায়েত ।  অনেকে  একাদশীর  দিনই   বেড়াতে   বেরিয়ে  পড়েছেন  তারা ছাড়া ।   মায়ের কাছে  প্রাণ খুলে  পার্থনা  করতে  হবেনা? “ ওমা  ,  এবারে একটা  বড় গাড়ী আর ,  আর একটু  বড় ফ্ল্যাট ,  আর  আর  একটা  প্রমোশন  
                                        তারপর  ,  সবাই  যার যার  ফ্ল্যাটে  ফিরে চলে  গেলো । মালক্ষ্মী   একলা  বসে রইলেন  প্যান্ডেল  আলো করে ।  রাত যখন  আরও  গভীর হল   নির্জন  হয়ে গেলো  চারিদিক ।  জ্যোৎস্নায়  চরাচর  ভাসিয়ে  দিয়ে  কোজাগরী  পুর্নিমার  চাঁদ  আকাশ থেকে  নেমে এসে  বসলো  মালক্ষ্মীর  পাশে 

Wednesday, 1 February 2012

আমাদের জেঠ্যামনি ।

     জ্যাঠামনি  মানে  বাবাদের সব  চাইতে  বড়  ভাই ।  যখন  থেকে  মনে আছে  মাথায় সাদা চুল আর একজোড়া  সাদা বেশ জাঁদরেল  গোঁফ ।  প্লেটে ঢেলে  ঠাণ্ডা করে চা   খাওয়ার  সময়  ,দুধের বাটিতে  চুমুক  দেওয়ার  সময় ,  আমাদের   গৃহদেবতা  গোপালের  ভোগের  ক্ষীর  খাওয়ার সময়  গোঁফ  ভিজে যেতো ।

              যতদুর  মনে হয়  আমাদের  পরিবারের  বৈষয়িক দিকটা ছিল  জ্যঠামনির দায়িত্ব ।  সকাল থেকে  দুপুর  পর্যন্ত ডিসপেনসারির  ক্যাশে বসত ।  দুপুরে  একতলার  একটা  ঘরে বিশ্রাম  করতো । অনেক  ম্যগাজিন থাকতো  খাটে ।  বেশীর  ভাগই ইংরেজি । মাথার কাছে একটা দেওয়াল  আলমারিতে  থাকতো  পান সাজার  সরঞ্জাম ।  ভেজা  কাপড়ে  মোড়া  চেরা পান ,  শিশিতে শিশিতে  চুন,  খয়ের ।  আইসক্রিমের  কাঠি  ডোবান ।  আর থাকতো  ছোটদের  মনরঞ্জন  করার  জন্যে ।  মিষ্টি সুপুরি , লেবু লজেন্স ,  নকুলদানা , আমরা বলতাম  এলাচদানা ।

               মাঝে মাঝেই  পান  সাজত , নিজেও  খেত আর দুটো  বারান্দা আর একটা  উঠোন  পেরিয়ে   রান্নাঘরে  কাজে  ব্যস্ত জ্যাঠাইমার  মুখে গুঁজে দিয়ে আসতো ।  আমাদের  মোটাসোটা  শ্যামলা  রঙের  নাকে  নাকছাবি  পরা  জ্যাঠাইমা   মুখ  ফিরিয়ে  একটু  লজ্জা লজ্জা  হাসত। জ্যাঠাইমার হাসিটা  দেখতে  পাচ্ছি যেন ।

            আমাদের জন্যেও  মাঝে মাঝে  পান সাজত  জ্যাঠামনি , ছোট্ট করে । নকুলদানা , লেবু লজেন্স , দিত হাতে ।

          খুব ভোরবেলা  মেজমেয়ে , আমাদের ছোড়দির  বাড়ী যেতো  বাগানের যত্ন করতে ।  খুব সুন্দর বাগান ছিল  ছোড়দির বাড়ীতে  সামনে দিকে  ফুলের বাগান  পেছন দিকে  ফলের ।  নানা রকম ফুল  ফুটত , নানা মাপের  নানা  রঙের গোলাপ ছিল  ঐ বাগানে। এমনকি  লতানো  গোলাপও ছিল ।  একদম সামনে একটা ম্যাগ্নোলিয়া  গাছ ছিল । সাধারণ ভাবে শীতের দেশ ছাড়া  এই গাছে ফুল ফোটে না , কিন্তু  এই গাছটাতে মাঝে মাঝে ফুল ফুটত ।  অনেক দিন পর পর ,  শীতকালে ।  একটা ফুল জ্যাঠামনি  আমার হাতে এনেদিত । আমি আবার সেটা নিয়ে স্কুলের   হেড মিস্ট্রেস মিস  তরফদারকে  দিতাম । উনি  অনেকক্ষন ধরে  ঈশ্বরের মহিমার কথা বলতেন ।  তারপর সামনের টেবিলে  ফুলদানিতে রেখে দিতে বলতেন।

                       প্রায় সবরকম ফল হতো। আম, কালো জাম , জামরুল ।পেয়ারা ইত্যাদি তো ছিলই আর  ছিল কিছু  ফল যা  অন্যকোথাও দেখিনি । তার মধ্যে একটাকে বলতাম “ পানিয়ালা ।“   সুপুরির  চেয়ে একটু বড় খানিকটা ফলসার মত রঙ , শক্ত । ওটাকে দু হাতের তেলোতে নিয়ে একটু চাপ দিয়ে ঘোরালে  আস্তে আস্তে নরম হয়ে যেতো । খুব ভালো খেতে । মিষ্টি আর টক স্বাদ । খুব বড় বড় করমচা হতো , অত বড় আর কোথাও দেখিনি ।

                    রোদ ওঠার পর বাড়ী ফিরত জ্যাঠামনি  বড় এক সাজি ভর্তি ফুল নিয়ে । ঐ ফুল আমাদের গোপালের   পুজোয় লাগতো এছাড়া  সামনের বাড়ীর তারা কাকারাও  নিয়ে যেতো পুজো করার জন্যে ।

       কাঠের ফ্রেমে  তারের জাল দিয়ে ঘেরা  একটা মোটামুটি বড় ঘর ছিল , অগুন্তি খোপ করা ।  জ্যাঠামনির  শখের আর আদরের পায়রার ঘর । মাঝে মাঝে পায়রার ডিম সেদ্ধ করে পায়রাদের খাওয়াত । আমরাও খেতাম ।  মুরগীর ডিমের মতই খেতে ।

               অল্প বয়েসে  বিয়ে হয়েছিলো , শুনেছি ।   জ্যাঠাইমা আরও ছোট । ফুলশয্যার রাতে বউএর সঙ্গে ভাব করার জন্যে  সদ্য গোঁফ  ওঠা বর নাকি  জিজ্ঞেস করেছিল “খুকি , তোমার নাম কি?”  খুকি  উত্তর দিয়েছিল “আহা ! জানেনা যেন !” মানে বর যত বোকা ভেবেছিল বউ তেমন ছিলনা । এখানে বলে রাখি জ্যাঠাইমার নাম ছিল  “তিলোত্তমা ।”

               জ্যাঠামনির  বড় মেয়ে আমাদের বড়দি । এর পরের পর্বে বড়দির মেয়ে  টুবুদির বিয়ের কিছু মজার ঘটনা  নিয়ে আসার ইচ্ছে আছে ।
· · · Share · Delete

    • Pritibhajan Byakti ekkebare chobi likhechen :)
      Monday at 3:03pm · · 2
    • Reza Rahman Very nice reading. Very much appreciated.
      Monday at 3:05pm · · 1
    • Mostak Al Mehedi চমত্‍কার, দিদি !
      Monday at 3:07pm · · 1
    • Rupankar Sarkar যেমন সুন্দর হয়, তেমনি এবারও। শীতকালের আগে দাঁড়ির জায়গায় কমা পড়বে আর তিলোত্তমা-য় 'ও' কার।
      Monday at 3:12pm · · 1
    • Sharmistha Ghosh Khub bhalo laglo .tar por?
      Monday at 3:16pm · · 1
    • Pps Bm কি ভাল, পরের গল্পের জন্নে বসে রইলাম। আমার গরমকালের করমচাদের কথা মনে পরে , মন ভাল হয়ে গেল।।
      Monday at 3:38pm · · 1
    • Subodh Das অসাধারণ লিখেছেন দিদি। ছোট্ট-ছোট্ট স্ট্রোক কিন্তু কী-গহন! মন ভরে গ্যাল। প্রণাম।
      Monday at 4:53pm · · 1
    • সরদার ফারুক Oshadharon amar didi ,ar tar lekha !
      Monday at 5:05pm · · 1
    • Kochi Reza কি দারুন লেখা! খুব সুন্দর। পড়ে ধন্য হলাম।
      Monday at 5:53pm ·
    • Madhuchhanda Paul পড়ে ভালো লেগেছে জেনে আমারও ভালো লাগলো . Pritibhajan Byakti
      Monday at 7:00pm · · 1
    • Biplob Rahman আপনার জ্যাঠামনিকে খুব ভালো লেগে গেলো। শাবাশ Madhuchhanda দিদি।
      Monday at 7:03pm ·
    • Madhuchhanda Paul অনেক ধন্যবাদ আপনাকে , রেজা ভাই ! Reza Rahman
      Monday at 7:08pm ·
    • Madhuchhanda Paul অনেক ধন্যবাদ , মোস্তাক ভাই ! Mostak Al Mehedi
      Monday at 7:12pm ·
    • Madhuchhanda Paul সংশোধন করে দেবো । আপনাকে আর ধন্যবাদ দেবনা নতুন করে ।আমার ভুল গুলো শুধরে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে অনেক উপকার করেন আমার । Rupankar Sarkar
      Monday at 7:16pm · · 1
    • Madhuchhanda Paul আছে আছে , নিম গাছে । Sharmistha Ghosh
      Monday at 7:18pm ·
    • Madhuchhanda Paul এরকম অনেক গল্প আছে ।একেকটা চরিত্র একেকটা গল্প । Pps Bm
      Monday at 7:20pm ·
    • Madhuchhanda Paul অনেক ধন্যবাদ আপনাকে । ঠিকানা পাঠিয়েছি , পেয়েছেন হয়তো ! Subodh Das
      Monday at 7:23pm ·
    • Madhuchhanda Paul আপনার দিদি অতি সাধারন ভাই ! যাদের নিয়ে লিখছি তারা কেউই আর পৃথিবী তে নেই । আমি যখন লিখি আমার মনে হয় আমার পাশে যেন তাঁরা এসে দাঁড়িয়েছেন । তাঁরাই আমায় দিয়ে লিখিয়ে নিচ্ছেন , মিত্র বাড়ীর ইতিহাস । সরদার ফারুক
      Monday at 7:28pm · · 3
    • Madhuchhanda Paul অনেক ধন্যবাদ আপনাকে । Kochi Reza
      Monday at 7:30pm ·
    • Madhuchhanda Paul বিপ্লব , আমার জ্যাঠামনি ভালো লাগার মতই ছিল যে!
      Monday at 7:32pm ·
    • Madhuchhanda Paul যারা যারা পড়েছেন সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
      Monday at 7:35pm ·
    • Anupam Das Sharma আশাপূর্ণা দেবী'র উপন্যাস এর মত উপভোগ করছি। বাঃ..
      Monday at 8:11pm · · 1
    • Madhuchhanda Paul কি যে বল ! তোমার ভালো লেগেছে এটাই যথেষ্ট । Anupam Das Sharma
      Monday at 10:42pm · · 1
    • Amitav Das darunnnnnn! darunnnnnn!
      Monday at 10:53pm · · 1
    • Milan Chatterjee দিদি খুব সুন্দর।
      Monday at 11:41pm ·
    • Milan Chatterjee আবার বলছি লেখাটা লীলা মজুমদারের লেখার সঙ্গে তুলনীয় । অসাধারণ, ঝরঝরে এবং প্রানবন্ত ।।
      Tuesday at 12:10am ·
    • Nandita Bhattacharjee apnar lekha pore amar ek jyetha monir kotha mone elo .amdr sob abdari chilo tar songe .bhalo gan gaite parten.onek bhalo laga.
      Tuesday at 8:42am · · 1
    • Ratnadipa De Ghosh madhuchhonda di .... enjoying .. jhorjhore vasha ..
      Tuesday at 10:51am ·
    • Madhuchhanda Paul লীলা মজুমদার আমার খুব প্রিয় আর শ্রদ্ধেয় লেখিকা । ওঁর সঙ্গে আমার তুলনা কোরনা । তোমার ভালো লেগাছে এই তো অনেক । Milan Chatterjee
      Tuesday at 2:10pm · · 1
    • Madhuchhanda Paul প্রায় সব পরিবারেই হয়তো এরকম কেউ একজন থাকতেন নন্দিতা . Nandita Bhattacharjee
      Tuesday at 2:13pm · · 1
    • Madhuchhanda Paul ধন্যবাদ তোমাকে অনেক ! Ratnadipa De Ghosh
      Tuesday at 2:15pm ·