Friday, 25 November 2011

আমাদের উৎসব /// বছরে এক দুবার দিদি বউদিরা হয়তো আঁতুড় ঘরে যেতো । দুতলার গোটা দুই ঘর খালিই পড়ে থাকতো , তারই একটা হত আঁতুড় ঘর ।প্রসব করানোর জন্যে আসতো মিস অ্যানি ,মিস টিরকি বা মিসেস চক্রবর্তী ।অ্যানি আর টিরকি গোলগাল হাসিখুশি লম্বা ঝুলের ফ্রক পরা ।মিসেস চক্রবর্তী চটপটে ,খটখটে মহিলা , মুখের কোন আগলনেই ,যার তার সামনে যা খুশি বলে । জন্মের ছ'দিন পর বাচ্চার মাথার কাছে রাখা হত লাল কালি ভর্তি দোয়াত আর খাগের কলম ,ষষ্ঠীঠাকরুন জাতকের কপালে তার ভাগ্য লিখে দেন সেদিন । আট দিনেরদিন আটকড়াই , যদি ছেলে জন্মে থাকে তবেই ।বাড়ির কোন একজন একটা কুলো উলটো করে ধরবে আর আটটা বাচ্চা ছেলে কাঠি দিয়ে সেই কুলো বাজাচে"আর বলবে "আটকৌড়ে বাটকৌড়ে / ছেলে আছে ভালো ?" ছেলের ঘর থেকে কেউ বলবে "ভালো আছে।" তারপর ছোটরা পাবে আটরকম কড়াই ভাজা নকুলদানা মেশানো আর দুআনা পয়সা । এরপর মেয়ে হলে একমাসে আর ছেলে হলে একুশ দিনে ষষ্ঠীপুজো সেদিন বাড়িতে বেশ লোকজন আসতো । ো বছরে বেশ কয়েকটা লক্ষ্মীপুজো হত আমাদের বাড়িতে । আমাদের লক্ষ্মী ধান দিয়ে তৈরি হত । জলচৌকির ওপর চুড়ো করে ধান দিয়ে তার ওপর একটা কুনকে বসিয়ে চেলির টুকরো দিয়ে ঢেকে লক্ষ্মী হত ।জলচৌকির ওপর সব রকম গয়না আঁকা হত । কাঠের পেঁচা সিঁদুর কৌটো দেওয়া হত । ঠাকুরের আসন থেকে চৌকাঠ অবধি আল্পনা আর লক্ষীর পা আঁকা হত ,এই কাজে আমাদেরও অধিকার ছিল । বাটিতে ঘন করে গোলা পিটুলি আর তুলো নিয়ে তিনতলা থেকে একতলার ঘরে ঘরে লক্ষ্মীরপা আর আল্পনা এঁকে বেড়াতাম । কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো হতনা আমাদের বাড়িতে । কালীপুজর দিন মহালক্ষ্মীর পুজো হত । ঘুঁটে দিয়ে তৈরি অলক্ষ্মীকে বিদায় করে চাল বাটা দিয়ে তৈরি হলুদ রঙের লক্ষ্মী, নীল রঙের নারায়ণ আর সাদা কুবের কে বাড়িতে আনা হত বরণ করে । বিজয়াদশমী বেশ বড় করে পালন করা হতো । পুরনো বাঙ্গালী পরিবার বলে অনেকেই আসতেন ।অনেক খাবার দাবার বানানো হত । পিসিমা তার বিশেষ জায়গায় বসে থাকতো । আমারা কাছে গিয়ে বসে লালকালি আর খাগের কলম দিয়ে দুর্গানাম লিখতাম ,পিসিমা মুখে একটু সিদ্ধির সরবত ঢেলে দিত । আসলে সরবত করত আমাদের ছোটকাকিমা বেশি করে আর রাতের দিকে আমার মা ছোটকাকিমা আরও কেউ কেউ সিদ্ধি খেয়ে একটু মজা করত, অবশ্যই লুকিয়ে । একটু নির্মল আনন্দ :) ।


No comments:

Post a Comment