Sunday, 20 November 2011

আমাদের শহরে বাঙালিদের দুর্গাপুজো হত বাড়ি থেকে বেশ দূরে ,একলা যেতে পারতামনা দাদাদের কেউ না কেউ সারাদিন যাওয়া আসা করত ,কারো সাইকেলের রডে উঠে বসলেই হল । দুর্গাবাড়ী র বারোয়ারী পুজো । সারাদিন বাঙ্গালীদের ভিড়ে জমজমাট ।একচালার প্রতিমা ,খুব বেশি বড়নয় তাই দেখে দেখে আশ মিটতনা । পূজো করতেন মাখন ভট্টাচার্য বৃদ্ধ মানুষ । সন্ধ্যা বেলা আরতি করার সময় মনে হত যেন কিছু তে ভর করেছে । নেশা গ্রস্তর মত নেচে নেচে বহুক্ষন ধরে করতেন আরতি । পাকামন্দির দুর্গাবাড়ির ।সামনে খোলা মাঠে ত্রিপল টাঙ্গিয়ে ,স্টেজ বেঁধে রোজ সন্ধ্যেবেলা নানান অনুষ্ঠান হত। আমার দাদাদের ক্লাব একদিন নাটক করত ।দাদা পিসিমার থান ,জ্যাঠাইমার সেমিজ , বউদিদের শাড়ি নিয়ে যেত পরে নাটক করবে বলে ,একবার বড় বউদির নতুন ব্যঙ্গালোর শাড়ি হারিয়ে এল ,খুব বকুনি খেল বাড়িতে । গঙ্গার ধারে অনেকদিনের পুরনো শিবমন্দির , বুঢ়ানাথ এর মন্দির, বিশাল বড় চত্বর। মাএরা সেখানে নবমীর দিনগঙ্গা স্নান করতে যেত । আমরা ছোটরা পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম । আমাদের মাথায় গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিত মা। কালীপূজোর আগের দিন ভূতচতুর্দশী ,সেদিন চোদ্দশাক খেতে হয় আর বাড়ির নানা জায়গায় ,বিশেষ করে অন্ধকার জায়গায় প্রদীপ জ্বালাতে হয় সবশুদ্ধ চোদ্দটা প্রদীপ দেওয়ার কথা ,আমাদের অতবড় পুরনো বাড়িতে অনেক অন্ধকার জায়গা তাই প্রদীপের হিসেব ঠিক থাকতনা । পরদিন কালীপূজো। সকাল বেলায় আগের বছর ধুয়ে মুছে তুলে রাখা ঝুড়ি ভর্তি মাটীর প্রদীপ নামানো হত । তার কদিন আগে থেকে যে যখন সময় পেত পুরনো ছেঁড়া ধুতি দিয়ে সলতে পাকাতে বসে যেত। পূজোরদিন দুপুর থেকেই প্রদীপের ঝুড়ি, গোছা গোছা সলতে আর তেলের টিন নিয়ে প্রদীপ সাজানো হত। সন্ধ্যেবেলা থালার ওপরে প্রদীপ বসিয়ে বাড়ি সাজাতাম আমরা ,হাওয়ায় বার বার প্রদীপ নিভে যেত । এছাড়া সেদিন বাড়িতে মহালক্ষ্মীর পূজোও হত । গোবর দিয়ে তৈরী অলক্ষ্মীকে কুলোর হাওয়া দিয়ে বিদায় করে চাল বাটা দিয়ে তৈরী করা কুবের আর লক্ষ্মী নারায়ণ কে বরণ করে বাড়িতে নিয়ে আসা হত । রাত্তির বেলা খাওয়া দাওয়ার পর আমাদের এক দাদা চেম্বার বন্ধ হলে ছোটদের নিয়ে বাজারে আলো দেখাতে বেরত । চোখ বুজলেই দেখতে পাই আমরা দশ /বারটি চ্যাঙা ব্যাঙা চলেছি কলবল করতে করতে। আর অনেক আগে আগে আমাদের দাদা হনহন করে হেঁটে যাচ্ছে ,রাস্তা ফাঁকা , চারিদিকে প্রদীপ ,মোমবাতি জ্বলছে । আমরা খুব দোল খেলতাম ,কোন বারন ছিলনা ,বড়রাও খেলত নিজেদের দলে । সকালে রঙ খেলা । সব রকম রঙ খেলতাম ,কয়েকটা পেতলের পিচকারি ছিল বাড়িতে ,দোলের আগে সেগুলর ভেতরের পুরনো কাপড় ফেলে দিয়ে নতুন করে কাপড় প্যাঁচাতাম । বিকেলে আবির খেলা সমবয়সীদের সঙ্গে , বড়দের পায়ে আবির দিয়ে প্রনাম করা। আমাদের এক জ্যাঠতুত দিদি থাকতো আমাদের বাড়ী থেকে খানিক দূরে । ,আমারা ছোড়দি বলতাম । ,বয়সে আমার মায়ের থেকে অনেকটাই বড়। তার ছেলেমেয়েরা আমাদের সমবয়সী বা কিছু বড় । ফুল ফলের খুব সুন্দর বাগান ছিল বাড়িতে । , আমদের বাড়ি রঙ খেলার পর আমরা ছোড়দির বাড়ী যেতাম রঙ খেলতে ,ওখানে উঠোন ছিল মাটীর ভেজা উঠোনে পিছলে ধুপ ধাপ পড়তাম । তারপর ওখানেই স্নান এবং মাংস ভাত খাওয়া । এই নিয়ম ছিল সব সময় । খুব ঘসে ঘসে রঙ তুলতাম । বাঁদুরে রঙ উঠতে চাইতনা । সেজন্যে মাঝে মাঝে স্কুলে বকুনি খেয়েছি । ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~


No comments:

Post a Comment