Saturday, 12 November 2011
যাদের কথা মনে আছে । ছোটবেলায় বাড়ীতে নিয়মিত এমন কেউ কেউ আসতেন যারা এমনিতে আমাদের আত্মীয় হয়তো ছিলেননা । এত বেশী দেখতাম তাদের যে কোনদিনই তাঁদের নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি মনে । আসলে সেই সময় সমাজের মানুষ প্রয়োজনে একে অপরকে ঠেকা দিয়ে নিজের ও অপরের পড়ে যাওয়া আটকাত । অনেক পরে বুঝতে পেরেছি এঁরা আমাদের বাড়ী থেকে নিয়মিত সাহায্য পেতেন । কারো কারো কথা বেশ ভালো মনে আছে । একজন পঞ্জাবী মহিলা আসতেন । অনেক বয়স , মুখে বলীরেখা ভর্তি । খুব ফর্সা রঙ , পরিস্কার সালোয়ার কুর্তা পরা । বাংলায় কথা বলতেন , মোটা গলায়। দুপুরের দিকে আসতেন । মা, পিসীমা, কাকীমা, জ্যাঠাইমা সবাইয়ের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে দেখা করতেন । যার যা দেওয়ার দিলে, বিকেলের দিকে চা খাবার খেয়ে ফিরে যেতেন । একজন আসতেন আমরা বলতাম ক্লাস সেভেনের দিদিমনি । দিদিরা যখন স্কুলে , ক্লাস সেভেনে পড়ত তখন ওদের ক্লাস টিচার ছিলেন । উনিও দুপুরের দিকেই আসতেন ,সঙ্গে থাকতো ভাইপো রতন । ছোটছেলে । আমরা ওনাকে দেখতে পেলেই লুকিয়ে পড়ার চেষ্টা করতাম । আমাদের দেখতে পেলে পড়া ধরতেন, অঙ্ক কষতে দিতেন । উনিও বিকেল পর্যন্ত থাকতেন , মনে হয় ওঁকে চাল দেওয়া হত । বস্তা করে চাল নিয়ে রিক্সায় উঠতে দেখেছি । আর আসতে দেখতাম গিরীন বাবুর মেয়েদের । তিনটি মেয়েকে আসতে দেখতাম । ১৫/১৬ থেকে ৭/৮ বছর বয়স হবে । ওরা এসে একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকতো । ছোট মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে হাসত । লুকিয়ে পড়ত থামের পেছনে , মনে হয় খেলতে চাইত । আমি কোনোদিন কথা বলেছি বলে মনে পড়েনা । একজন দূর সম্পর্কের বিধবা জ্যাঠাইমা এসে থাকতেন , বছরের মধ্যে বেশ কয়েকমাস সঙ্গে এক আধ পাগল ছেলেকে নিয়ে । সেই ব্রজদা ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুতনা , ভাত খেয়ে এঁটো হাতে মুখে যেখানে দিদি, বউদিরা বসে গল্প করছে বা বোনা , সেলাই করছে সেখানে গিয়ে স্বামীজির মত করে বুকে হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে পড়ত । ওরা আড়ালে হাসাহাসি করত । বিশুদা কার সুত্রে আমাদের বাড়ী এসেছিল জানিনা । সদ্য পূর্ববাংলা থেকে আসা । কথা বোঝা যেতনা ভালো করে , বলতওনা কথা বেশী । খুব গুটিয়ে থাকতো । নিচের একটা ঘরে থাকতে দেওয়া হয়েছিল ,ওখানেই থাকতো বেশিরভাগ সময় । বড় কোন বিপর্যয় পার হয়ে এসেছিল , শুনতাম । বেশ অনেক দিন পর আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল , আমাদের ডিসপেনসারিতে কম্পাউন্ডার হল । বেশ কয়েক বছর কাজ করার পর সাঁওতাল পরগনার কোন গ্রামে গেল ভাগ্য পরীক্ষা করতে । ডাক্তার হয়ে বসলো ওখানে । কিছুদিন পর শোনা গেল কোন নারী ঘটিত ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে ওখানেই বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছে । এর বেশ কিছুদিন পর এক দুপুরে পিসিমার নামে একটা পোস্টকার্ড এল বিশুদার লেখা । পিসীমা শুয়ে কাগজ পড়ছিল আমায় বলল পড়ে শোনাতে । বিশুদা কিকি লিখেছিল মনে নেই ।শুধু মনে আছে আমাদের বাড়ীতে বউ সমেত ফিরে আসতে চায় । এত বছর পরেও শেষ লাইনটা মনে আছে “ সে তো আপনাদেরই বধুমাতা ।‘’’ আর কোনদিন বিশুদাকে দেখিনি । ২৫/১০/১১
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment