Monday, 6 February 2012

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো

                      
            আজ পৌষ পার্বণ  পিঠে পায়েস খাওয়ার দিন আর আমার কিনা মনে পড়ছে এই বছর কলকাতায়  আমাদের আবাসনের  কোজাগরী  লক্ষ্মী পুজোর দিনের কথা ! কি আর করা । 

                              মাদুর্গা তো এলেন  ছেলে মেয়ে  সাঙ্গ পাঙ্গ  এমন কি বধ করার জন্য  এক  অসুরও আঁচলে  বেঁধে।   চার/ পাঁচ দিন ধরে সেকি উন্মাদনা  সেকি উৎসাহ  আমাদের আবাসনে    একবছর  ধরে  কেনা , পাওয়া ,   বাগানো  পোশাকের  সেকি  ঝলমলানি ।  কে মা কে মেয়ে চেনার উপায় তো নেই-ই , মাঝে মাঝে  দিদিমা  ঠাকুমাও  গুলিয়ে যাওয়ার   যোগাড় ।  বেঁচে থাক শাহনাজ হোসেনের  প্রোডাক্ট ,  তোমাদের  কল্যানেই  তো জানলাম   রিঙ্কিল ফ্রী ক্রিম কাকে বলে ।  বেঁচে  থাক  বিউটি  পার্লার গুলো । সোনার কাঁচি সোনার চিরুনি  হোক মা তোমাদের ।   কি আস্পরদা বলে নাকি মেয়েরা কুড়িতেই  বুড়ি !  সময় এসেছে জবাব দেবার । এক কুড়ির জায়গায় তিন কুড়ি হল  প্রায় ।  বলুক তো কেউ বুড়ি !
              এদিকে  দুবেলা  একসঙ্গে পাতপেড়ে  চর্ব্য চোষ্য খেয়ে ওজন  বাড়িয়ে  ফেলেছে প্রায় সবাই । সারাদিন তো বসে বসেই  কাটছে  হয়  আড্ডায় বসা নয়তো  অনুষ্ঠান দেখতে বসা । পাঁচ দিনের  নানা রকম  অনুষ্ঠান ।  ছোটদের  করা ,  মাঝারি দের করা, বড়দের করা , এমনকি  বয়স্ক মহিলাদের  করা । তবে  বলতেই হবে  সবকটাই   হয়েছিল  যাকে বলে জব্বর ।
                                                                     তারপর  তো  মিটে গেলো দুর্গা পুজো । এবার  পালা  মা লক্ষীকে আবাহন করার ।  এদিকে  সামনেই  কালিপুজো ।  ডেকরেটারের  লোকেরা  প্যান্ডেলের বাঁশ, কাপড়  খোলার জন্যে টানাটানি  শুরু  করে দিয়েছে ।  তার মধ্যে  ছোটখাটো  মা  লক্ষ্মী যেন একটু  কুণ্ঠিত  হয়েই  অধিষ্ঠিত  হলেন ।
                  দুপুর  বেলা দেখা গেল  তখনও চারিদিকে  এলোমেলো  অনেক  হাবিজাবি  জিনিষ  ছড়িয়ে  ছিটিয়ে  পড়ে আছে ।  একটি মাঝ বয়সি  লোক   পুজোর কদিন  এসে কাজকর্ম   করে দেয়  তাকেও  দেখা যাচ্ছেনা   আসেপাশে ।  অবশেষে  পুজোকমিটীর  প্রেসিডেন্ট  নিজেই  একটা ঝাঁটা  হাতে  ময়দানে  নেমে  পড়লেন    ভাগ্যক্রমে  সেটা চোখে   পড়ে গেলো এক   কর্মকত্রীর   তিনি  এসে  ব্যপারটাকে  টেক আপ  করলেন ।   পাশদিয়ে  যাচ্ছিল  কাঠ  মিস্ত্রিদের  একজন ।   তাকে  ডেকে পয়সা   দেবার  কথা বলে  মাএর আশপাশ  পরিস্কার  করে দিতে  বলা হল । 
 সে একটা মাটীর  মালসায়  খানিকটা জল নিয়ে  পাশের দড়িতে  কারো একটা  কারো  একটা  কেচে   শুকোতে দেওয়া  হাফপ্যান্ট   টেনে নিয়ে  জায়গাটা  মুছে পরিস্কার  করে দিল ।  প্যান্টের মালিক  কি  করেছিল  জানানেই !
                          সন্ধ্যেবেলা  আরতির  সময়  আবার  জমায়েত ।  অনেকে  একাদশীর  দিনই   বেড়াতে   বেরিয়ে  পড়েছেন  তারা ছাড়া ।   মায়ের কাছে  প্রাণ খুলে  পার্থনা  করতে  হবেনা? “ ওমা  ,  এবারে একটা  বড় গাড়ী আর ,  আর একটু  বড় ফ্ল্যাট ,  আর  আর  একটা  প্রমোশন  
                                        তারপর  ,  সবাই  যার যার  ফ্ল্যাটে  ফিরে চলে  গেলো । মালক্ষ্মী   একলা  বসে রইলেন  প্যান্ডেল  আলো করে ।  রাত যখন  আরও  গভীর হল   নির্জন  হয়ে গেলো  চারিদিক ।  জ্যোৎস্নায়  চরাচর  ভাসিয়ে  দিয়ে  কোজাগরী  পুর্নিমার  চাঁদ  আকাশ থেকে  নেমে এসে  বসলো  মালক্ষ্মীর  পাশে 

No comments:

Post a Comment