আজ পৌষ পার্বণ পিঠে পায়েস খাওয়ার দিন। আর আমার কিনা মনে পড়ছে এই বছর কলকাতায় আমাদের আবাসনের কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর দিনের কথা ! কি আর করা ।
মাদুর্গা তো এলেন ছেলে মেয়ে সাঙ্গ পাঙ্গ এমন কি বধ করার জন্য এক অসুরও আঁচলে বেঁধে। চার/ পাঁচ দিন ধরে সেকি উন্মাদনা সেকি উৎসাহ আমাদের আবাসনে । একবছর ধরে কেনা , পাওয়া , বাগানো পোশাকের সেকি ঝলমলানি । কে মা কে মেয়ে চেনার উপায় তো নেই-ই , মাঝে মাঝে দিদিমা ঠাকুমাও গুলিয়ে যাওয়ার যোগাড় । বেঁচে থাক শাহনাজ হোসেনের প্রোডাক্ট , তোমাদের কল্যানেই তো জানলাম রিঙ্কিল ফ্রী ক্রিম কাকে বলে । বেঁচে থাক বিউটি পার্লার গুলো । সোনার কাঁচি সোনার চিরুনি হোক মা তোমাদের । কি আস্পরদা বলে নাকি মেয়েরা কুড়িতেই বুড়ি ! সময় এসেছে জবাব দেবার । এক কুড়ির জায়গায় তিন কুড়ি হল প্রায় । বলুক তো কেউ বুড়ি !
এদিকে দুবেলা একসঙ্গে পাতপেড়ে চর্ব্য চোষ্য খেয়ে ওজন বাড়িয়ে ফেলেছে প্রায় সবাই । সারাদিন তো বসে বসেই কাটছে ।হয় আড্ডায় বসা নয়তো অনুষ্ঠান দেখতে বসা । পাঁচ দিনের নানা রকম অনুষ্ঠান । ছোটদের করা , মাঝারি দের করা, বড়দের করা , এমনকি বয়স্ক মহিলাদের করা । তবে বলতেই হবে সবকটাই হয়েছিল যাকে বলে জব্বর ।
তারপর তো মিটে গেলো দুর্গা পুজো । এবার পালা মা লক্ষীকে আবাহন করার । এদিকে সামনেই কালিপুজো । ডেকরেটারের লোকেরা প্যান্ডেলের বাঁশ, কাপড় খোলার জন্যে টানাটানি শুরু করে দিয়েছে । তার মধ্যে ছোটখাটো মা লক্ষ্মী যেন একটু কুণ্ঠিত হয়েই অধিষ্ঠিত হলেন ।
দুপুর বেলা দেখা গেল তখনও চারিদিকে এলোমেলো অনেক হাবিজাবি জিনিষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে । একটি মাঝ বয়সি লোক পুজোর কদিন এসে কাজকর্ম করে দেয় তাকেও দেখা যাচ্ছেনা আসেপাশে । অবশেষে পুজোকমিটীর প্রেসিডেন্ট নিজেই একটা ঝাঁটা হাতে ময়দানে নেমে পড়লেন । ভাগ্যক্রমে সেটা চোখে পড়ে গেলো এক কর্মকত্রীর তিনি এসে ব্যপারটাকে টেক আপ করলেন । পাশদিয়ে যাচ্ছিল কাঠ মিস্ত্রিদের একজন । তাকে ডেকে পয়সা দেবার কথা বলে মাএর আশপাশ পরিস্কার করে দিতে বলা হল ।
সে একটা মাটীর মালসায় খানিকটা জল নিয়ে পাশের দড়িতে কারো একটা কারো একটা কেচে শুকোতে দেওয়া হাফপ্যান্ট টেনে নিয়ে জায়গাটা মুছে পরিস্কার করে দিল । প্যান্টের মালিক কি করেছিল জানানেই !
সন্ধ্যেবেলা আরতির সময় আবার জমায়েত । অনেকে একাদশীর দিনই বেড়াতে বেরিয়ে পড়েছেন তারা ছাড়া । মায়ের কাছে প্রাণ খুলে পার্থনা করতে হবেনা? “ ওমা , এবারে একটা বড় গাড়ী আর , আর একটু বড় ফ্ল্যাট , আর আর একটা প্রমোশন । ”
তারপর , সবাই যার যার ফ্ল্যাটে ফিরে চলে গেলো । মালক্ষ্মী একলা বসে রইলেন প্যান্ডেল আলো করে । রাত যখন আরও গভীর হল নির্জন হয়ে গেলো চারিদিক । জ্যোৎস্নায় চরাচর ভাসিয়ে দিয়ে কোজাগরী পুর্নিমার চাঁদ আকাশ থেকে নেমে এসে বসলো মালক্ষ্মীর পাশে ।
No comments:
Post a Comment