জ্যাঠামনি মানে বাবাদের সব চাইতে বড় ভাই । যখন থেকে মনে আছে মাথায় সাদা চুল আর একজোড়া সাদা বেশ জাঁদরেল গোঁফ । প্লেটে ঢেলে ঠাণ্ডা করে চা খাওয়ার সময় ,দুধের বাটিতে চুমুক দেওয়ার সময় , আমাদের গৃহদেবতা গোপালের ভোগের ক্ষীর খাওয়ার সময় গোঁফ ভিজে যেতো ।
যতদুর মনে হয় আমাদের পরিবারের বৈষয়িক দিকটা ছিল জ্যঠামনির দায়িত্ব । সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ডিসপেনসারির ক্যাশে বসত । দুপুরে একতলার একটা ঘরে বিশ্রাম করতো । অনেক ম্যগাজিন থাকতো খাটে । বেশীর ভাগই ইংরেজি । মাথার কাছে একটা দেওয়াল আলমারিতে থাকতো পান সাজার সরঞ্জাম । ভেজা কাপড়ে মোড়া চেরা পান , শিশিতে শিশিতে চুন, খয়ের । আইসক্রিমের কাঠি ডোবান । আর থাকতো ছোটদের মনরঞ্জন করার জন্যে । মিষ্টি সুপুরি , লেবু লজেন্স , নকুলদানা , আমরা বলতাম এলাচদানা ।
মাঝে মাঝেই পান সাজত , নিজেও খেত আর দুটো বারান্দা আর একটা উঠোন পেরিয়ে রান্নাঘরে কাজে ব্যস্ত জ্যাঠাইমার মুখে গুঁজে দিয়ে আসতো । আমাদের মোটাসোটা শ্যামলা রঙের নাকে নাকছাবি পরা জ্যাঠাইমা মুখ ফিরিয়ে একটু লজ্জা লজ্জা হাসত। জ্যাঠাইমার হাসিটা দেখতে পাচ্ছি যেন ।
আমাদের জন্যেও মাঝে মাঝে পান সাজত জ্যাঠামনি , ছোট্ট করে । নকুলদানা , লেবু লজেন্স , দিত হাতে ।
খুব ভোরবেলা মেজমেয়ে , আমাদের ছোড়দির বাড়ী যেতো বাগানের যত্ন করতে । খুব সুন্দর বাগান ছিল ছোড়দির বাড়ীতে সামনে দিকে ফুলের বাগান পেছন দিকে ফলের । নানা রকম ফুল ফুটত , নানা মাপের নানা রঙের গোলাপ ছিল ঐ বাগানে। এমনকি লতানো গোলাপও ছিল । একদম সামনে একটা ম্যাগ্নোলিয়া গাছ ছিল । সাধারণ ভাবে শীতের দেশ ছাড়া এই গাছে ফুল ফোটে না , কিন্তু এই গাছটাতে মাঝে মাঝে ফুল ফুটত । অনেক দিন পর পর , শীতকালে । একটা ফুল জ্যাঠামনি আমার হাতে এনেদিত । আমি আবার সেটা নিয়ে স্কুলের হেড মিস্ট্রেস মিস তরফদারকে দিতাম । উনি অনেকক্ষন ধরে ঈশ্বরের মহিমার কথা বলতেন । তারপর সামনের টেবিলে ফুলদানিতে রেখে দিতে বলতেন।
প্রায় সবরকম ফল হতো। আম, কালো জাম , জামরুল ।পেয়ারা ইত্যাদি তো ছিলই আর ছিল কিছু ফল যা অন্যকোথাও দেখিনি । তার মধ্যে একটাকে বলতাম “ পানিয়ালা ।“ সুপুরির চেয়ে একটু বড় খানিকটা ফলসার মত রঙ , শক্ত । ওটাকে দু হাতের তেলোতে নিয়ে একটু চাপ দিয়ে ঘোরালে আস্তে আস্তে নরম হয়ে যেতো । খুব ভালো খেতে । মিষ্টি আর টক স্বাদ । খুব বড় বড় করমচা হতো , অত বড় আর কোথাও দেখিনি ।
রোদ ওঠার পর বাড়ী ফিরত জ্যাঠামনি বড় এক সাজি ভর্তি ফুল নিয়ে । ঐ ফুল আমাদের গোপালের পুজোয় লাগতো এছাড়া সামনের বাড়ীর তারা কাকারাও নিয়ে যেতো পুজো করার জন্যে ।
কাঠের ফ্রেমে তারের জাল দিয়ে ঘেরা একটা মোটামুটি বড় ঘর ছিল , অগুন্তি খোপ করা । জ্যাঠামনির শখের আর আদরের পায়রার ঘর । মাঝে মাঝে পায়রার ডিম সেদ্ধ করে পায়রাদের খাওয়াত । আমরাও খেতাম । মুরগীর ডিমের মতই খেতে ।
অল্প বয়েসে বিয়ে হয়েছিলো , শুনেছি । জ্যাঠাইমা আরও ছোট । ফুলশয্যার রাতে বউএর সঙ্গে ভাব করার জন্যে সদ্য গোঁফ ওঠা বর নাকি জিজ্ঞেস করেছিল “খুকি , তোমার নাম কি?” খুকি উত্তর দিয়েছিল “আহা ! জানেনা যেন !” মানে বর যত বোকা ভেবেছিল বউ তেমন ছিলনা । এখানে বলে রাখি জ্যাঠাইমার নাম ছিল “তিলোত্তমা ।”
জ্যাঠামনির বড় মেয়ে আমাদের বড়দি । এর পরের পর্বে বড়দির মেয়ে টুবুদির বিয়ের কিছু মজার ঘটনা নিয়ে আসার ইচ্ছে আছে ।
যতদুর মনে হয় আমাদের পরিবারের বৈষয়িক দিকটা ছিল জ্যঠামনির দায়িত্ব । সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ডিসপেনসারির ক্যাশে বসত । দুপুরে একতলার একটা ঘরে বিশ্রাম করতো । অনেক ম্যগাজিন থাকতো খাটে । বেশীর ভাগই ইংরেজি । মাথার কাছে একটা দেওয়াল আলমারিতে থাকতো পান সাজার সরঞ্জাম । ভেজা কাপড়ে মোড়া চেরা পান , শিশিতে শিশিতে চুন, খয়ের । আইসক্রিমের কাঠি ডোবান । আর থাকতো ছোটদের মনরঞ্জন করার জন্যে । মিষ্টি সুপুরি , লেবু লজেন্স , নকুলদানা , আমরা বলতাম এলাচদানা ।
মাঝে মাঝেই পান সাজত , নিজেও খেত আর দুটো বারান্দা আর একটা উঠোন পেরিয়ে রান্নাঘরে কাজে ব্যস্ত জ্যাঠাইমার মুখে গুঁজে দিয়ে আসতো । আমাদের মোটাসোটা শ্যামলা রঙের নাকে নাকছাবি পরা জ্যাঠাইমা মুখ ফিরিয়ে একটু লজ্জা লজ্জা হাসত। জ্যাঠাইমার হাসিটা দেখতে পাচ্ছি যেন ।
আমাদের জন্যেও মাঝে মাঝে পান সাজত জ্যাঠামনি , ছোট্ট করে । নকুলদানা , লেবু লজেন্স , দিত হাতে ।
খুব ভোরবেলা মেজমেয়ে , আমাদের ছোড়দির বাড়ী যেতো বাগানের যত্ন করতে । খুব সুন্দর বাগান ছিল ছোড়দির বাড়ীতে সামনে দিকে ফুলের বাগান পেছন দিকে ফলের । নানা রকম ফুল ফুটত , নানা মাপের নানা রঙের গোলাপ ছিল ঐ বাগানে। এমনকি লতানো গোলাপও ছিল । একদম সামনে একটা ম্যাগ্নোলিয়া গাছ ছিল । সাধারণ ভাবে শীতের দেশ ছাড়া এই গাছে ফুল ফোটে না , কিন্তু এই গাছটাতে মাঝে মাঝে ফুল ফুটত । অনেক দিন পর পর , শীতকালে । একটা ফুল জ্যাঠামনি আমার হাতে এনেদিত । আমি আবার সেটা নিয়ে স্কুলের হেড মিস্ট্রেস মিস তরফদারকে দিতাম । উনি অনেকক্ষন ধরে ঈশ্বরের মহিমার কথা বলতেন । তারপর সামনের টেবিলে ফুলদানিতে রেখে দিতে বলতেন।
প্রায় সবরকম ফল হতো। আম, কালো জাম , জামরুল ।পেয়ারা ইত্যাদি তো ছিলই আর ছিল কিছু ফল যা অন্যকোথাও দেখিনি । তার মধ্যে একটাকে বলতাম “ পানিয়ালা ।“ সুপুরির চেয়ে একটু বড় খানিকটা ফলসার মত রঙ , শক্ত । ওটাকে দু হাতের তেলোতে নিয়ে একটু চাপ দিয়ে ঘোরালে আস্তে আস্তে নরম হয়ে যেতো । খুব ভালো খেতে । মিষ্টি আর টক স্বাদ । খুব বড় বড় করমচা হতো , অত বড় আর কোথাও দেখিনি ।
রোদ ওঠার পর বাড়ী ফিরত জ্যাঠামনি বড় এক সাজি ভর্তি ফুল নিয়ে । ঐ ফুল আমাদের গোপালের পুজোয় লাগতো এছাড়া সামনের বাড়ীর তারা কাকারাও নিয়ে যেতো পুজো করার জন্যে ।
কাঠের ফ্রেমে তারের জাল দিয়ে ঘেরা একটা মোটামুটি বড় ঘর ছিল , অগুন্তি খোপ করা । জ্যাঠামনির শখের আর আদরের পায়রার ঘর । মাঝে মাঝে পায়রার ডিম সেদ্ধ করে পায়রাদের খাওয়াত । আমরাও খেতাম । মুরগীর ডিমের মতই খেতে ।
অল্প বয়েসে বিয়ে হয়েছিলো , শুনেছি । জ্যাঠাইমা আরও ছোট । ফুলশয্যার রাতে বউএর সঙ্গে ভাব করার জন্যে সদ্য গোঁফ ওঠা বর নাকি জিজ্ঞেস করেছিল “খুকি , তোমার নাম কি?” খুকি উত্তর দিয়েছিল “আহা ! জানেনা যেন !” মানে বর যত বোকা ভেবেছিল বউ তেমন ছিলনা । এখানে বলে রাখি জ্যাঠাইমার নাম ছিল “তিলোত্তমা ।”
জ্যাঠামনির বড় মেয়ে আমাদের বড়দি । এর পরের পর্বে বড়দির মেয়ে টুবুদির বিয়ের কিছু মজার ঘটনা নিয়ে আসার ইচ্ছে আছে ।
No comments:
Post a Comment